বলিউডের দূর্দিনের কারণ
বলিউডে কুফা লেগেছে। সম্ভবত সারাক্ষণ তাদের মুসলিম বিদ্বেষ মনোভাবের কারণে এমন অবস্থা!
বলিউড সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র জায়গা, যেভাবে মুভির মাধ্যমে ১টি নির্দিষ্ট ধর্ম ও ধর্মের অনুসারীদের জঙ্গী, উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করে বারবার মুভি বানানো হয়। মানে এখন বিষয়টা এমন হয়েছে যে, যার হঠাৎ প্রচুর টাকার দরকার, সে বলিউডে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিমদের অপমান করে, উগ্র জঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করে, ইতিহাস বিকৃত করে মুভি বানায়। ব্যস, সিনেমা হিট। ১৯০ বছরে ব্রিটিশরা সব লুট করে নিজের দেশে নিয়ে গেলো। আমির খানের লাগান, মঙ্গল পাণ্ডে, থাগস অফ হিন্দুস্থান মুভিতে তা ফুটে উঠেছে। তবুও ব্রিটিশদের প্রতি ভারতীয়রা রাগ, আক্রোশ দেখায় না। যা দেখানো সব মুসলিমদের উপর।
অকারনে আমির খানের পিছনে লেগেছিলো উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। ৯ বছর আগের PK মুভির ইস্যু নিয়ে। অথচ মুভির ডিরেক্টর হিন্দু, তাকে কেউ কিছু বলে নাই। এমন কি OMG মুভিতে একই বিষয় নিয়ে পরেশ রাওয়ালও একই কথা বলেছে। তাকেও কেউ কিছু বলে নাই। সবার টার্গেট আমির খান। আর মোঘলরা ভারতের জন্য কী করেছে তা ভারতের ইতিহাস পড়লেই জানা যায়। হৃতিক এর আকবর দ্য গ্রেট মুভিতেও তার উল্লেখ আছে। বীরবল ছিলো আকবরের প্রিয়জনদের একজন। তার স্ত্রী যোধা মোঘল প্রাসাদের ভিতর মন্দির স্থাপন করেছিলো। মুসলিমরা হিন্দু বিদ্বেষী হলে যোধা মন্দির নয়, কাবা শরিফে হজ্জ করতো। মুসলিমরা সংখ্যালঘু হয়ে হিন্দুদের নির্যাতন করলে ৬০০ বছর মোঘল সাম্রাজ্য টিকতো না। ১৮% মুসলিম বলিউডকে যা দিয়েছে তা ৭৪% হিন্দুদের চেয়ে কম না।
অভিনয় কিভাবে করতে হবে তা বলিউডকে শিখিয়েছে ইউসুফ খাঁন, যাকে সবাই দীলিপ কুমার নামে চেনে। (এখন আবার কেউ বলবেন না, দীলিপ কুমার নাম রেখে ইউসুফ খান বিখ্যাত হয়েছেন! বাবার ভয়ে সে নাম পরিবর্তন করতে চেয়েছিলো, প্রডিউসার দেবীকা রানী নিজ থেকে তার নাম দীলিপ কুমার রেখেছে। মানুষ তার যোগ্যতায় বিখ্যাত হয়। অক্ষয় কুমারের নাম 'রাজিব হরি ওম ভাটিয়া' হলেও সে বিখ্যাত হতো)
★ গত ৩০ বছর ধরে বলিউড শাসন করছে তিন খাঁন। শাহরুখ, আমির, সালমান।
★ সর্বোচ্চ ৮টি ফিল্ম ফেয়ার এওয়ার্ড পেয়েছে দুইজন। ইউসুফ খান (দীলিপ) ও শাহরুখ খান।
★ হ্যাট্রিক! পর পর ৩ বার ও সর্বোচ্চ ফিল্ম ফেয়ার এওয়ার্ড পাওয়া একমাত্র অভিনেত্রী শাবানা আজমির।
★ বলিউডের ১ম মধুর আওয়াজের গায়ক, যার হাত ধরে বলিউড মুভিতে গান সমৃদ্ধ হয়েছে তিনি মোহাম্মদ রফি, এরপর কিশোর কুমার।
★ অস্কার এনে দিয়েছে এ. আর. রহমান। (যদিও সত্যজিৎ রায় লাইফ টাইম অস্কার পেয়েছিলো)
★ বলিউডের গল্প ও স্ক্রিপ্ট এর রাজত্ব করেছে সেলিম খান & জাভেদ আক্তার।
★ বলিউডকে ডায়লগ লেখা শিখিয়েছে কাদের খাঁন।
★ বলিউডে ন্যাচারাল অ্যাক্টিং এর প্রবর্তক নাসির উদ্দিন শাহ।
★ বলিউডকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে মোঘলে আজম খ্যাত ডিরেক্টর কে. আসিফ।
★ সুপার ট্যালেন্টেড শিল্পী কমল হাসান ভারতের তাবৎ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে কী কী দিয়েছে তার হিসাব আর নাইবা করলাম।
★ বলিউডে ভিলেনের গুরুত্ব তৈরী করেছে মোনা ডার্লিং খ্যাত ভিলেন অজিত, আর ভিলেনী চরিত্রকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে গব্বর সিং খ্যাত আমজাদ খাঁন।
ভারত তখনই মহান দেশ হবে, যখন সেখানে সব ধর্ম ও সব জাতের মানুষকে সন্মান দেয়া হবে, তাদের কোনও অধিকার বা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। যতই সুবিধাবাদী ব্রাহ্মণরা নিজেদের আরাম আয়েশের জন্য শূদ্র ও মুসলিমদের বঞ্চিত ও নির্যাতন করবে ততই তারা আরও বিভক্ত হবে।



কোন মন্তব্য নেই