Header Ads

"রক্তনেশা" - (ফিরোজ হাসান)

 

"বাদল ভাই, আপনার গল্পটা খুব সুন্দর হয়েছে। আপনি যে লেখক তা তো জানতাম না। গল্পটা এমনভাবে লিখেছেন যেন সত্যি সত্যিই ব্যাপারগুলো ঘটেছে। গল্পটি শেষ করেননি কেন"?

 

বেশ কিছু কথা বলে সোহেল চুপ করল। বাদল কোনো উত্তর দিল না। তার মেজাজ এখন বেশ গরম। সোহেল তার ব্যাক্তিগত ডায়েরি পড়েছে। এটা ভালো কোনো কাজ নয়। ডায়েরিতে ঘটনা ছাড়া অন্য কিছু লেখা নেই। সেই জন্য সোহেল ওটাকে গল্প ভেবেছে। তা ছাড়া ডায়েরিতে এভাবে কেউ গল্প লেখে না। সোহেল তাহলে এটাকে গল্প ভাবল কেন? লেখা কি গল্পের মতো হয়েছে?

 

সোহেল উঠে চলে গেল। এই ঘরে বাদল একাই থাকে। মেসের অন্য রুমগুলোতে দুই থেকে চারজন করে থাকে। তবে এখানে বাদল একা। বাদল নিজের ঘটনাগুলো পড়তে শুরু করল

 

অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর ব্লাড ব্যাংকে একটা চাকরি পেলাম। সঙ্গত কারণেই নাম উল্লেখ করছি না। ছোট্ট একটা চাকরি। একা মানুষ, কোনো রকমে চলত আমার। নতুন কাজ শুরু করেছি। তেমন কিছু জানতাম না। বলতে গেলে শিক্ষানবিশ ছিলাম। যে যা বলত তাই করাই ছিল আমার প্রাথমিক কাজ। বেতন পাঁচ হাজার টাকা প্রতিটি আলাদা গ্রুপের রক্ত খুব সতর্কতার সাথে রাখতে হতো, এবং কোন ব্যাগের রক্ত কত দিন পুরোনো সেটাও এন্ট্রি করতে হতো।

 

বেশ চলছিল এভাবে। কিন্তু হঠাৎ একদিন পুলিশ হামলা চালাল। জানতে পারলাম, এখানে নাকি ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এসে রক্ত, কিডনি, চোখ বের করে নেওয়া হয়। আমি বেশ ভীতু স্বভাবের মানুষ। অল্পতেই ঘাবড়ে যাই। পুলিশের সাথে আমাদের লোকজনের কিছু গোলাগুলি হয়েছিল। এসব দেখে আরও ভয় পেয়ে যাই। স্টোররুমের ভেতরে ছোট্ট একটা কাবার্ডের ভেতর আমি লুকিয়ে পড়ি। কিছু লোক পালিয়ে গিয়েছিল আর কিছু লোক ধরা পড়েছিল। পুলিশ চলে যাওয়ার সময় সবকিছু তালাবদ্ধ করে দিয়ে চলে যায়। বাইরে চার-পাঁচজন পুলিশ পাহারায় বসা ছিল। আমি কাবার্ড থেকে বের হয়ে আবিষ্কার করলাম পালানোর কোনো উপায় নেই। এই বিল্ডিংয়ের সবকিছু তেমনভাবে আমার জানা নেই। কোনো গুপ্ত দরজা যদি থেকেও থাকে তবে সেটা আমি জানি না। পরের দিন সকাল পর্যন্ত শুধু বের হওয়ার রাস্তা খুঁজেছি, পাইনি। দ্বিতীয় দিন একটা ঘর আবিষ্কার করলাম। ঘরটির দরজা সিঁড়িঘরের নিচে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, সহজে কারো চোখে পড়বে না, আর পড়লেও সেটাকে দরজা বলে বোঝা মুশকিল। অনেক চেষ্টা করে দরজাটা খুলতে পারলাম। একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম। এক কোণে একটা সুইচ অন করতেই আমার সমস্ত শরীরের রক্ত ঠান্ডায় হিম হয়ে গেল। ঘরের ভেতর ছয়টি ছোট্ট শিশুর মৃতদেহ পড়ে আছে। সবার বয়স -১০ বছর। সবারই চোখ, কিডনি বের করে নেওয়া হয়েছে। বেশিক্ষণ থাকতে পারলাম না, বের হয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম।

 


মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। এভাবে বন্দী অবস্থায় আরো দুই দিন কাটল। প্রচণ্ড ক্ষুধায় একেবারে কাহিল হয়ে পড়েছিলাম। অনেক খোঁজাখুঁজি করে কিছুই পেলাম না। এভাবে আরও এক দিন চলে গেল। পুলিশ যাওয়ার সময় এমনভাবে সবকিছু সিলগালা করেছে যে, আমি মোটামুটি বিল্ডিংয়ের পেছনের দিকে কোণঠাসা হয়ে আটকা পড়েছি। এখান থেকে চিৎকার করলেও কেউ শুনতে পারবে না। নিজের বেঁচে থাকা নিয়ে সন্দেহ হতে শুরু হলো আমার। সব সময় একটা আতঙ্কের ভেতর ছিলাম আমি।

 

পঞ্চম দিনের কথা, আমি যে রুমে ছিলাম সেটা ব্লাড রাখার একটা এক্সটেনশন রুম। ফ্রিজে অনেক ব্লাড রাখা আছে। ঘরটার মাঝে রক্তের একটা গন্ধ সব সময় নাকে আসত। এখানে ফ্রিজে কাচের বোতলে রক্ত সংরক্ষণ করা হতো। আমার হাতের ধাক্কায় একটা বোতল মাটিতে পড়ে ভেঙে গেল। সমস্ত মেঝেতে রক্ত গড়িয়ে পড়ল। আমি সেটা নিয়ে আর মাথা ঘামালাম না। ওখানেই একটা টেবিলে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙল রক্তের গন্ধে। গন্ধটা মাথার মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। নেশার মতো লাগছিল আমার। রক্তের বোতলের দিকে এগোচ্ছি আমি। একটা বোতল হাতে তুলে নিলাম। তারপর বোতলের মুখটি খুললাম। কী করছি, কেন করছি বুঝতে পারলাম না, অথবা বোঝার মতো জ্ঞান বা পরিস্থিতি তখন ছিল না। তিন বোতল রক্ত খেয়ে ফেললাম। রক্তের স্বাদ নোনতা, তা শুধু শুনেই এসেছিলাম। কিন্তু আজ বুঝতে পারলাম শুধু নোনতা না, একটা আঁশটে গন্ধ আছে।

 

রক্ত খাওয়ার পর কিছুটা ভালো লাগছিল। ভোরের দিকে আরও তিন বোতল রক্ত খেলাম। কিন্তু শরীরের দুর্বল ভাবটা কাটছিল না। হঠাৎ করে সিঁড়িঘরের নিচে ছোট্ট ঘরটার কথা মনে পড়ল। চলে গেলাম ঘরটিতে। ছয়টি শিশুর লাশ পড়ে আছে মেঝেতে। আমার মাঝে তখন সম্ভবত কোনো ভয়ংকর পশু অথবা কোনো পিশাচ ভর করেছিল। কামড়ে ধরলাম একটি শিশুর লাশের উরুতে। মাংস পচতে শুরু করেছে। পচা গন্ধ আসছিল। কিন্তু আমার চাই বেঁচে থাকা। এরপর বেশ কয়েক বোতল রক্ত নিয়ে চলে এলাম ছোট্ট ঘরে। ওখানেই থাকতে শুরু করলাম। ঘরটি অত্যধিক ঠান্ডা। দুই দিন এই ঘরের মাঝেই খুঁটিনাটি দেখতে লাগলাম। লাশগুলো নিশ্চয়ই সবার সামনে দিয়ে নিয়ে যেত না। এখান থেকেই কিছু একটা করত। তাহলে এখানে কোনো গুপ্ত দরজা থাকাটা অসম্ভব কিছু না। তৃতীয় দিন আমার ধারণাটাই ঠিক প্রমাণিত হলো। একটা ছোট্ট গুপ্ত দরজা খুঁজে পেলাম। দরজাটি ভাঙলাম। ওটি ছিল একটি সুড়ঙ্গ পথ। সেই পথ ধরে বের হয়ে এলাম একটি জলাশয়ে। পনেরো দিন পর সূর্যের আলো দেখতে পেলাম। পালিয়ে গেলাম নরক থেকে।

 

নতুন চাকরি পেলাম গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে কেয়ারটেকার হিসেবে। পরিবারের সদস্য ছিল পাঁচজন। আমাকে মোটামুটি সবাই পছন্দ করত। একদিন সবাই বেড়াতে গেল। রেখে গেল বাড়ির বৃদ্ধ সদস্যকে। কিছুক্ষণ পর আমাকে ডাকলেন উনি। গল্প করতে খুব পছন্দ করতেন। আমাকে গল্প শোনাতে লাগলেন যুদ্ধের গল্প। হঠাৎ আমার মাঝে যেন একটা পিশাচ জেগে উঠল। ব্লাডব্যাংকের দিনগুলোর কথা মনে পড়ল। বুড়োটাকে দেখে আমার চোখ চকচক করতে লাগল। আমাকে দেখে বুড়োটি গল্প বলা বন্ধ করে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমি ওর গলায় কামড় বসিয়ে দিলাম।

 

অনেক রাত করে সবাই বাসায় ফিরল। আমি একটি মিথ্যা গল্প সাজালাম। খুব নিখুঁতভাবে বললাম, “আমি বাইরে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দাদুর চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখি এই অবস্থা আমার কথা সবাই বিশ্বাস করল। কারণ, বুড়ো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাংস ছিল না। তা ছাড়া বাড়ির কোনো মালামাল চুরি হয়নি বা হারায়নি। গ্রামে একটি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল, হায়না এসেছে। কেউ বলে পিশাচ, আরও অনেক কিছু। এক মাসের মধ্যে বাড়ির আরও দুজনকে শেষ করলাম। বাকি দুজন ভয়ে পালিয়ে গেল। আমিও গ্রাম থেকে পালিয়ে চলে গেলাম। কারণ গ্রামের সবাই ততদিনে আমাকে কেমন সন্দেহ করা শুরু করে দিয়েছিল। তাই ধরা পড়ার আগেই সেখান থেকে কেটে পড়লাম। যে নতুন এলাকায় এলাম সেখানেও তেমন সুবিধা করতে পারলাম না। স্থায়ী ঠিকানা করে নিলাম এক গোরস্থানে। গোরস্থানে যেসব লাশ দাফন করা হতো, আমি সেগুলো রাতের বেলা মাটি খুঁড়ে বের করতাম। এভাবে বেশ কিছুদিন কাটল। কিন্তু রক্ত পাচ্ছিলাম না কোথাও। তাজা রক্ত খাওয়ার জন্য যেন একটি হিংস্র তৃষ্ণা আমার বুকে জ্বলে উঠেছিল।

 


রক্তের জন্য একটি কুকুরের বাচ্চাকে ধরলাম। তেমন ভালো না, মানুষের রক্তের স্বাদই আলাদা। আর সবচেয়ে ভালো হচ্ছে মেয়েদের ঊরুর মাংস। একটা মিষ্টি মিষ্টি স্বাদ আছে। দিনের বেলা একটি কবরের ভেতর লুকিয়ে থাকতাম। এভাবে বেশি দিন আর ভালো লাগছিল না। তাই শহরে চলে এলাম। ছোট্ট একটা চাকরি নিলাম, সাথে দুটো টিউশনি। মাসে মোট ছয় হাজার টাকা। একজন মানুষের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আমার বেশির ভাগ টাকা রক্ত কিনতেই ব্যয় হতো। মানুষের রক্ত ছাড়া অন্য কোনো রক্তই ভালো লাগে না.....

 

ডায়েরিতে এই পর্যন্তই লেখা আছে। বাদল ডায়েরি রেখে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। সোহেলের খোঁজ করতে হবে।

 

বাদল এখন একটি মেসে থাকে। মাত্র চার দিন হচ্ছে সে এই মেসে উঠেছে। কারো সাথে তার তেমন পরিচয় হয়নি। সোহেল পাশের রুমেই থাকে, প্রতিদিনই একবার আসে, কিছুক্ষণ গল্প করে চলে যায়। সোহেল ঘটনাটি পড়ে ফেলেছে। আসলে ভুলটা বাদলেরই। দরজা খুলে রেখে বাথরুমে গোসল করতে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। তাছাড়া ডায়েরিটাও টেবিলের ওপরেই ছিল। সাবধানে না থাকলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা আছে। আর একবার ধরা পড়লে নির্ঘাত মৃত্যু। রাত প্রায় বারোটা বাজে। বাদল রাস্তায় হাঁটছে উদ্দেশ্যহীনভাবে। কিছু মানুষ হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরছে। বাদলের পাশ দিয়ে যখন কেউ একা হেঁটে যাচ্ছে তখন বাদলের নেশার মতো লাগছে। নিজেকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। আবার আক্রমণ করার সাহসও পাচ্ছে না। এটা গ্রাম নয়, শহর। এখানে হায়না বা পিশাচের ভয় কেউ করবে না। বাদল থমকে দাঁড়াল। ছয়-সাত বছরের পিচ্চি একটা টোকাই ছেলে হেঁটে আসছে। বাদলকে দেখে ছেলেটি হাসল.... সপ্তাহ খানেক পরে বাদলের ডায়েরিতে লেখা...

 

“...আমি কিছুদিন আগে একটি টোকাই ছেলেকে খেয়ে ফেলেছি। পরের দিন ঘটনাটি পত্রিকায় এল। পত্রিকায় যা লেখা হয়েছিল তার সারমর্ম হচ্ছে-“একটি ছোট ছেলের ছিন্নভিন্ন লাশ পাওয়া গেছে। কোনো হিংস্র প্রাণী খেয়েছে বলে অনেকের ধারণা সোহেল ঘটনাটা পত্রিকায় পড়েছে। এরপর থেকে সে আমার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে থাকে। কিছু একটা বলতে চায় সে। সম্ভবত আমাকে সে সন্দেহ করছে। এরপরের দিন সোহেল আমাকে একটি জ্যান্ত মুরগি খেতে দেখে চিৎকার করে পালিয়ে যায়। পরে সে এই কথা মেসের সবাইকে বলে দিয়েছে। এরপর আমি সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসি। এই খবর সব পত্রিকায় গত পরশু বেশ গুরুত্বের সাথে ছেপেছে। সব জায়গায় আমার নাম ছাপা হলো। টিভিতে সোহেলের ইন্টারভিউ দেখাল। আমি এখন খুব সমস্যায় পড়েছি। গতকাল থেকে একটি গোরস্থানে অবস্থান করছি....

 

ডায়েরিতে আর কিছু লেখা নেই।

 

বাদল এখন বের হবে। রাত প্রায় পৌনে একটা বাজে। কিছু একটা খাওয়া দরকার। নির্জন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটি গাড়ির পাশে এসে থমকে দাঁড়ালাম। আয়নায় নিজের চেহারা দেখে কখনো এতটা ভয় পাব বুঝতে পারিনি।

 

চেহারায় একটা পিশাচ ভাব ফুটে উঠেছে। হঠাৎ সোহেলের কথা মনে পড়ে গেল 1 বাদলের। ওর জন্য আজ সবাই জানতে পেরেছে। অবশ্য ওকে দোষ দিয়েই বা লাভ কী? অমন দৃশ্য দেখলে যে কেউই চিৎকার দিয়ে উঠবে। সোহেলকে কখনো হাতের নাগালে পেলে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে।

 

বাদল উদাসভাবে হাঁটছে। আকাশের চাঁদটাকেও উদাস মনে হচ্ছে তার। একটি ছোট্ট শিশুর কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। বাদল পেছন ফিরে তাকাল কে যেন হেঁটে আসছে! কোলে একটি ছোট্ট শিশু। লোকটি বাদলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাদল তাকে ডাকল-

 

কী হয়েছে ভাই”?

আর বলবেন না। মেয়েটাকে মেলায় নিয়ে গিয়েছিলাম। এখন বাসায় যেতে চাচ্ছে না

আপনি কী বলে ওকে ভয় দেখাচ্ছিলেন”? “ আচ্ছা। রক্তপাগলা বলছিলাম

রক্তপাগলা আবার কী?

কেন, আপনি পত্রিকায় পড়েননি! নারায়ণগঞ্জে একটি ছোট্ট ছেলের বীভৎস লাশ পাওয়া গেছে। একজন মানুষ নাকি তাকে খেয়েছে। লোকটি নাকি একটি মুরগি খাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। কিন্তু সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। লোকটির নাম বাদল। এখন আপনিই বলুন তো ভাই, শুধু নাম দিয়ে কি চেনা সম্ভব! দেশে তো হাজার হাজার বাদল আছে

আর কী জানেন আপনি”?

আজকে সকালে পত্রিকায় পড়লাম, সোহেল নামের এক ছেলে বাদলের ব্যক্তিগত ডায়েরি পড়েছিল। লোকটি নাকি একটি ব্লাড ব্যাংকে চাকরি করত। অবৈধ কাজের জন্য পুলিশ ব্লাডব্যাংক সিলগালা করে দিয়েছে। লোকটির সব পরিচয়ই নাকি পাওয়া গেছে। আজ পুলিশ বাদলের ছবিও উদ্ধার করেছে। আগামীকাল পত্রিকার লিড নিউজ হবে এইটা

বাহ! আপনি তো দেখছি বেশ ভালো খবর রাখেন। আগামীকাল পত্রিকার লিড নিউজ হবে, সেটাও জানালেন। আচ্ছা ভাই, বাদলের ছবি না দেখে যদি তাকে সরাসরি দেখেন তাহলে কেমন হবে”?

তার মানে! কে আপনি?

ভাই, এই জায়গার নাম কী"?

"এই জায়গার নাম আপনি জানেন না”?

কীভাবে জানব বলুন। সারাক্ষণ পালিয়ে বেড়াই। কখন কোন দিকে দৌড়াচ্ছি তার কোনো ঠিক নাই"

সত্যি করে বলুন তো, কে আপনি?

রক্তপাগলা..."

 

বীভৎস একটি দৃশ্য সেই নির্জন জায়গায় কেউ দেখতে পেল না।

 


বাদল সকালে পেপার পড়ছে। বড় বড় করে তার ছবি ছাপানো হয়েছে। তার সাথে অনেক ইতিহাস লেখা হয়েছে। অনেকের মতামত জানানো হয়েছে। তবে এক জায়গায় লেখা আছে, “এই পিশাচকে জীবিত বা মৃত ধরতে পারলে নগদ এক লক্ষ টাকা পুরস্কার" বাদল উঠে পড়ল। এখন আর কারো সামনে যাওয়া যাবে না। সবাই চিনে ফেলবে। পত্রিকাওয়ালা কাজের ব্যস্ততায় বুঝতে পারেনি। কিন্তু অন্য সবাই ব্যস্ত না। বাংলাদেশে বেকার মানুষের সংখ্যা বেশি। এক লক্ষ টাকার আশায় সবাই সবার দিকে শকুনের মতো তাকিয়ে থাকবে। দেখামাত্রই হত্যা করবে, কেউ দয়া দেখাবে না। আমি যেমন কাউকে দয়া করিনি

 

সোহেল হেঁটে হেঁটে মেসে ফিরছে। রাত খুব একটা হয়নি। নয়টা বাজে। তার পরও শহরে লোকজনের মাঝে একটা আতঙ্ক। মেসের কাছাকাছি আসতেই বাদল তার পিছু নিল

 

কেমন আছ সোহেল”?

সোহেল পেছন ফিরে চমকে উঠলবাদল ভাই, আপনি এখানে" !

তোমার সাথে দেখা করতে এলাম। তুমি তো আমার ব্যবসার লালবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছ

 তার মানে...! আপনি এখানে কেন এসেছেন”? “আমার ছবি পেপারে ছাপা হয়েছে। তখন একটা কথা মনে পড়ল।

 

চাকরিতে দেয়া পাসপোর্ট সাইজের ছবি ছাড়া আমার আর কোনো ছবিই নেই। আসো, দুজনে একটা সেলফি তুলি। তোমার মোবাইলে ছবি তোলা যায় তো....”? সোহেল পকেট থেকে মোবাইল বের করতে করতে মেসে তার বন্ধু ইমনকে ফোন দিল এখান থেকে মেস বিল্ডিংটা দেখা যাচ্ছে। মেসে মোট আটজন আছে। ইমন ফোন রিসিভ করেছে। সোহেল বাদলের সাথে কথা বলা শুরু করল-

 

বাদল ভাই, আপনি মেসের সামনে এসে ভুল করেছেন। আপনাকে এখন আমরা সবাই মিলে ধরতে পারি"

যুবকদের রক্ত নাকি খুব গরম হয়। কিন্তু কখনো টেস্ট করা হয়নি"আপনি মানুষ না, পিশাচ। আপনাকে হত্যা করা উচিত"

 

বাদল সোহেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে। ওর জন্যই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। কিন্তু রাতে অন্ধকারে বাদল বুঝতেও পারল না, চারপাশে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আটজন যুবক চলে এসেছে। যাদের রক্ত আসলেই খুব গরম।

...................................................

 




কোন মন্তব্য নেই

Popular Posts

Featured Post

টাইটানিক কি সত্যিই ডুবেছিলো!

  টাইটানিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান White Star Line ১৯০৭ সালে ৩টি বিলাশবহুল সুপার লাইনার তৈরীর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.