Header Ads

টাইটানিক কি সত্যিই ডুবেছিলো!

 


টাইটানিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান White Star Line ১৯০৭ সালে ৩টি বিলাশবহুল সুপার লাইনার তৈরীর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে তৈরী করা হয় "Olympic” এরপর "Titanic” এবং সবশেষে "Britannic”. ১৯১১ সালের ১৪ জুন Olympic তার ১ম যাত্রা করে। একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর Olympic তার ৫ম যাত্রায় ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ HMS Hawke এর সাথে ধাক্কা লেগে Olympic এর নিচের দিকে দুটি বিশাল ছিদ্র হয়ে যায়। তখন White Star Line এর মালিক Olympic এর মেরামতের জন্য বীমা কোম্পানীর কাছে বীমার টাকা দাবী করে। কিন্তু Olympic এর এই দূর্ঘটনার জন্য Olympic-কে বীমার অযোগ্য ঘোষণা করে বীমা কোম্পানী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদিকে আরেকটি বিশাল জাহাজ Titanic নির্মানাধীন থাকায়  White Star Line ছিলো দেউলিয়া হবার পথে। তাদের বিলাশ বহুল Titanic নির্মানের জন্য বিনিয়োগ করেন তৎকালীন আমেরিকার কুক্ষ্যাত বিনিয়োগকারী J. P. Morgan. এদিকে  White Star Line এর মালিক J. Bruce Ismay অত্যন্ত কঠোর কুট ব্যাবসায়ী। তারা দুজনেই বীমা জালিয়াতি করার পরিকল্পনা করে। ক্ষতিগ্রস্থ জাহাজ Olympic এর জন্য টাকা না দিলেও নতুন জাহাজ Titanic ডুবে গেলে বীমা কোম্পানী সম্পূর্ণ টাকা দিতে বাধ্য। তখনই তারা চিন্তা করে, যদি Olympic জাহাজের নাম বদলে Titanic রাখা হয়, আর Titanic নামধারী পুরানো জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয় তাহলেই তারা বীমার পুরো টাকাটা পেয়ে যাবে। দুই ধূর্ত ব্যবসায়ী এই সুযোগটির পুরোপুরি সৎ ব্যাবহার করে। দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ Olympic-কে Southampton বন্দরে কোনো রকমে চলার উপযোগী করে, এর পূর্ণাঙ্গ মেরামতের জন্য Belfast- নিয়ে আসা হয়। তখন Belfast- Titanic এর নির্মান কাজও প্রায় শেষ। Olympic আর Titanic ভিতর বাহির সব দিক থেকে হুবহু একই রকম। পাশাপাশি রাখা অবস্থায় সাধারণ লোকের পক্ষে কিছুতেই বলা সম্ভব না, কোনটা Olympic আর কোনটা Titanic. ১৯১২ সালে মার্চের ১ম সপ্তাহে Titanic   Olympic শেষ বারের মত পাশাপাশি রাখা হয়। আর সেই সুযোগেই পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হাত সাফাইয়ের কাজটি। আয়তনে প্রায় তিনটি ফুটবল মাঠের চেয়ে বড় দুটি জাহাজকে বদলে ফেলা হয় মাত্র এক রাতের ব্যবধানে। White Star Line দাবী করে, ১৯১২ সালের মার্চের তারিখে Olympic মেরামতের কাজ শেষ করে Belfast ত্যাগ করে। কিন্তু এটিই মূলত নতুন জাহাজ Titanic. পুরানো জাহাজ Olympic এর নাম ধারণ করে বন্দর থেকে বেরিয়ে আসে। তার ঠিক তিন সপ্তাহ পরে পুরানো জাহাজ Olympic নতুন Titanic নাম ধারণ করে এর ১ম যাত্রার জন্য প্রস্তুতি নেয়।



Titanic এর ১ম যাত্রার জন্য Belfast থেকে Southampton বন্দরে নিয়ে আসার পর Titanic এর বহু কর্মী কাজে ইস্তফা দিয়ে জাহাজ থেকে নেমে যায়। সেসময় ব্রিটেনে চলছিলো জাতীয় কয়লা ধর্মঘট। কয়লা ধর্মঘটের কারণে বহু জাহাজ বন্দরে আটকে ছিলো। হাজার হাজার নাবিকেরা তখন কোনো কাজ পাচ্ছিলো না। সেই আকালের সময়ও Titanic এর কর্মীরা কেন চাকরি ছেড়ে চলে গেলো? কারণ, তারা জানতে পেরেছিলো আর কয়েকদিনের মধ্যেই জাহাজটিকে ডুবিয়ে দেয়া হবে। আরও সন্দেহের বিষয় হলো যাত্রা শুরুর ঠিক আগ মুহুর্তে জাহাজের মালিক J. P. Morgan সহ Titanic এর ৫৫জন ১ম শ্রেণীর যাত্রী তাদের যাত্রা বাতিল করে। অথচ Titanic তৈরীর সময় J. P. Morgan নিজেই জনসম্মুখে ঘোষনা করেছিলো Titanic এর ১ম যাত্রায় সে অবশ্যই সফর করবে। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল জাহাজের তিন ভাগের মাত্র দুই ভাগ যাত্রী নিয়ে Titanic Southampton বন্দর থেকে New York এর উদ্দেশ্যে ১ম যাত্রা করে। যে জাহাজের ১ম যাত্রায় ভ্রমণ করতে পারাটা এক আভিজাত্যের বিষয় ছিলো, হঠাৎ কী এমন ঘটলো যে যাত্রীরা তাদের যাত্রা বাতিল করলো?

Titanic এর মালিকেরা চিন্তায় ছিলো যখন তারা Titanic নামধারী জাহাজটি ডুবিয়ে দিবে তখন এতগুলো যাত্রীর কী হবে? সেজন্য তারা একটি উদ্ধারকারী জাহাজ তৈরী রাখার পরিকল্পনা করে।  J. P. Morgan এরই আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজ হলো Californian. Californian জাহাজটিও তখন ব্রিটেনের কয়লা ধর্মঘটের কারণে লণ্ডণ বন্দরে আটকে ছিলো। এরপর হঠাৎ করেই রহস্যজনক ভাবে Californian জাহাজটি কয়লা ছাড়াই বন্দর ত্যাগ করে আমেরিকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সেই মুহুর্তে Californian জাহাজে যে পরিমাণ কয়লা ছিলো তা দিয়ে কিছুতেই আমেরিকায় পৌছানো সম্ভব ছিলো না। তাছাড়া বন্দর ছাড়ার মুহুর্তে জাহাজে মালামাল বা যাত্রী কিছুই ছিলো না। পুরোপুরি ফাঁকা এই জাহাজটিতে তখন ছিলো শুধুমাত্র তিন হাজার কম্বল শীত বস্ত্র। Titanic ডুবে গেলে একটি উদ্ধারকারী জাহাজে যা থাকা দরকার এবং যে পরিমাণ দরকার ঠিক সেই পরিমাণই ছিলো। Californian তার পূর্ণ গতিতে আটলান্টিকে ছুটতে থাকে এবং হঠাৎ করেই ১৪ এপ্রিল মাঝ সাগরে গিয়ে ক্যাপ্টেনের নির্দেশে জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। Titanic যাত্রা শুরু করার পর একই পশ দিয়ে যাওয়া পূর্ববর্তী জাহাজ Titanic এর সামনে থাকা হিমশৈলের সংকেত পাঠিয়েছে। কিন্তু Titanic এর গতি তাতে একটুও কমানো হয়নি। তাছাড়া হিমশৈল সামনে পড়লে এমনকি রাতের বেলায়ও যেকোনো জাহাজের পর্যবেক্ষণ ডেক থেকে তা সহজেই দেখা যায়। অনেকেই মনে করে Titanic ইচ্ছাকৃত ভাবেই হিমশৈলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। পরবর্তীতে দূর্ঘটনার অনুসন্ধানের সময় জাহাজের সেকেণ্ড অফিসার বলেন, সেরাতে ডিউটি শেষ করে যাওয়ার সময় তিনি প্রায় দেড় থেকে দুই মাইল দূরে হিমশৈলটি দেখতে পান। তিনি মনে করেন, জাহাজটি ঘুরিয়ে সংঘর্ষ এড়ানোর মত তখনও যথেষ্ট সময় ছিলো। তাই তিনি বিষয়টি কন্ট্রোলরুমকে জানানোর বিশেষ প্রয়োজন মনে করেন নি। ১৪ এপ্রিল রাত ১১:৪৫ মিনিটে Titanic হিমশৈলে ধাক্কা খাওয়ার সাথে সাথে  Titanic এর তলার ৫টি কম্পার্টমেন্ট একেবারে ভেঙে যায়। White Star Line এর পরিকল্পনা মত Titanic   এর ক্যাপ্টেন দূর্ঘটনার নাটক সাজাতে গিয়ে সত্যি সত্যি এক ভয়াবহ দূর্ঘটনার স্বীকার হয়। অপরিকল্পিত এই দূর্ঘটনায় ক্যাপ্টেন হতবুদ্ধি হয় পড়ে। সাধারণত এই ধরণের আপদকালীন পরিস্থিতিতে একটি জাহাজের যা যা করণীয় Titanic তার কোনোটিই গ্রহণ করেনি। হিমশৈলের সাথে ধাক্কা খাওয়ার পর ক্যাপ্টেন জাহাজের ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। যাতে করে হিমশৈলের সাথে জাহাজের আরও বেশী করে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা তৈরী হয়। আলামত দেখেই মনে হয় তারা চাইছিলো জাহাজটা ডুবে যাক। জাহাজটাকে বাঁচানোর তারা কোনো চেষ্টাই করেনি। হিমশৈলের সাথে ধাক্কা লাগার দীর্ঘ ৩৫ মিনিট পর Titanic নিজেকে উদ্ধারের জন্য রেডিও বার্তা পাঠায়। অথচ আধা ঘন্টা সময়ই একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। এছাড়া ডুবতে শুরু করার ঘন্টা ২৫ মিনিট পর ১ম লাইফ বোট জাহাজ থেকে ছাড়া হয়। এমনিতেই জাহাজে থাকা লাইফ বোটের ব্যবস্থা ছিলো মাত্র অর্ধেক লোকের জন্য। তারপরও যে কয়েকটি লাইফ বোট ছাড়া হয়েছে তার অধিকাংশই পুরোপুরি ভর্তি না করেই ছেড়ে দেয় হয়। এর কারণ হলো, Californian এর উদ্ধারের আশায় Titanic এর ক্যাপ্টেন অপেক্ষা করছিলো। কিন্তু Californian Titanic এর আশেপাশে থাকলেও দূর্ভাগ্যজনকভাবে একজন যাত্রীরও জীবন রক্ষা করতে পারেনি। রাত ২টার মধ্যে পুরো জাহাজটি দুইভাগ হয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেই সাথে প্রায় দেড় হাজার যাত্রীও ডুবে যায় আটলান্টিকের বরফশীতল জলে। লাইফবোটে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করা হয় পরদিন সকালবেলা।

 


দূর্ঘটনার একমাস পর দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে যেসব নাবিক ইংল্যাণ্ডে ফিরে আসে তাদের স্বজনদের সাথে প্রথমেই দেখা করতে না দিয়ে প্রায় ২৪ ঘন্টা একপ্রকার আটকে রাখা হয়। সেসময় White Star Line এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জীবিত ফিরে আসা কর্মীদেরকে হুমকি দেয় তারা Titanic সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করলে তাদের পরিণতিও হবে জাহাজের মত। রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারও বিষয়টি ঠিকঠাক তদন্ত না করে এক প্রকার ধামাচাপা দিয়ে দেয়। এভাবেই Titanic নাম ধারণ করে Olympic জাহাজটি আটলান্টিক সাগরের নীচে আজও ডুবে আছে। আর অন্যদিকে প্রকৃত Titanic, Olympic নাম ধারণ করে ১৯৩৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আরও দীর্ঘ ২৫ বছর সম্পূর্ণ সচল থেকে তারপর অবসর গ্রহণ করে। ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ HMS Hawk এর সাথে ধাক্কা লাগার পরেও Olympic এর এত দীর্ঘ বছর সচল থাকা কোনো ভাবেই সম্ভব ছিলো না।

 



Titanic ছাড়াও বহু জাহাজ মালিক তাদের পুরানো মেয়াদ উত্তীর্ণ জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দিয়েছে শুধুমাত্র বীমা কোম্পানীর কাছ থেকে বীমার টাকা হাতিয়ে নিতে। আটলান্টিক মহাসাগরের নির্দিষ্ট একটি এলাকার মধ্যে বহু জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দিয়ে সে এলাকায় অতিপ্রাকৃতিক কোনো বিষয় আছে বলে গুজব ছড়ানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা পুয়ের্তো রিকো এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপ বারমুডা, এই তিনটি স্থানের মধ্যবর্তী কাল্পনিক ত্রিভূজ আকার এলাকা বারমুডা ট্রায়এঙ্গেল নামে পরিচিত। অনেকের দাবী এখানে পৌছা মাত্র জাহাজ বা বিমান নিখোঁজ হয়ে যায়। আসলেই কি বারমুডা ট্রায়ওঙ্গেলে এমন অলৌকিক কিছু আছে? নাকি এই রহস্যেরও পুরোটাই গুজব!


(সতর্কতাঃ এই ফিচারের কোনও তথ্যের প্রমাণ এই "ferrose's journey" ব্লগ সাইট বা লেখক বহন করে না। এই ফিচারের বিষয় বস্তু অনলাইন থেকে নেয়া। যা লোকমুখে প্রচলিত) 

……………………………………………………………….

কোন মন্তব্য নেই

Popular Posts

Featured Post

টাইটানিক কি সত্যিই ডুবেছিলো!

  টাইটানিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান White Star Line ১৯০৭ সালে ৩টি বিলাশবহুল সুপার লাইনার তৈরীর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.