Header Ads

"অতি জগৎ" (ফিরোজ হাসান)


“স্যার, আপনি কি সম্পূর্ণ প্রস্তুত?”

ডঃ জোসেফ সাধারণত তার এই নির্বোধ রোবটের কোন প্রশ্নের উত্তর দেন না, এখনও দিলেন না।

“স্যার, আমি আপনাকে একটি প্রশ্ন করেছি।”

“চুপ করো।”

রোবটটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো, “আমি কি আপনাকে সাহায্যে করতে পারি?”

“না, পারনা।”

“অবশ্যই পারি। কেননা, রোবট মানুষ হতে অনেক শক্তিশালী।”

ডঃ জোসেফের মেজাজ এবার চড়ে গেল। তিনি চোখ বড়বড় করে বললেন, “কুত্তার বাচ্চা।”

“স্যার, আপনি ভুল বললেন। কুকুর একটি জৈবিক প্রাণী আর রোবট কখনও জৈবিক ভাবে জন্ম নেয় না।”

“তুমি কি এখান থেকে যাবে?”

“কোথায় যাব?”

“জাহান্নামে যাও”

“এক্ষুনি যাচ্ছি স্যার। তবে, জায়গাটা কোথায় একটু বললে সুবিধা হতো। এখান থেকে কতদূর হবে স্যার?”

ডঃ জোসেফ এবার অত্যন্ত নম্রস্বরে বললেন, “ট্রুকুন, তুমি পাশের ঘরে চুপ করে বসে থাক।”

“জ্বি আচ্ছা স্যার।”

ট্রুকুন চলে গেল। ডঃ জোসেফ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। কিছুদিন হচ্ছে তিনি সম্পূর্ণ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। আজ তার সব ব্যস্ততার অবসান ঘটবে।


   সমস্ত পৃথিবী যখন যন্ত্র নিয়ে ব্যস্ত, তখন তিনি মানুষের মৃত শরীর নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন, মৃত মানুষের সাথে যোগাযোগ করা এবং তিনি তার গবেষণায় সফল হয়েছেন। এখন তিনি একটি শীতল ক্যাপস্যুলে ঘুমিয়ে পড়বেন। তাঁর পাশে তিনটি ক্যাপস্যুলে তিনজন মানুষের লাশ আছে। একজন বৃদ্ধ, একজন যুবক, একজন যুবতী। তিনি ঘুমোনোর ঠিক ছয় ঘন্টা পর ট্রুকুন তাকে জাগিয়ে তুলবে। ট্রুকুনকে সেইভাবে প্রোগ্রামিং করা হয়েছে। তিনি ক্যাপস্যুলে যাওয়ার আগে একটি চিঠি লিখলেন।

     

 “আজ ২৩১৬ সাল, ১৩ আগষ্ট, রবিবার, রাত ১০টা ৩০মিনিট। আমি ডঃ জোসেফ, মৃত মানুষের সাথে যোগাযোগ করার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানের প্রধান কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই আমার গবেষনা শুরু করেছি। আমি জানি, আমার এই অপরাধ প্রায় T80.C2 মাত্রার সমপর্যায়ের। আমি এটাও জানি যে, আমার এই অপরাধের জন্য আমাকে আল্ট্রা- ভায়োলেট রশ্মির সাহায্যে একই সাথে মানসিক ও শরীরিক যন্ত্রনা দেওয়া হবে। যা মৃত্যু যন্ত্রনা হতে প্রায় দশগুন তীব্র। আমার এই গবেষণার কথা প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। কারন,আমি সবরকম যোগাযোগ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রেখেছি এবং আমার এই নিবোর্ধ রোবটটি জানে যে, আমি এসবকিছুই বিজ্ঞান কাউন্সিলের অনুমতিতেই করছি।”- ডঃ জোসেফ।     


   ডঃ জোসেফ শীতল ক্যাপস্যুলে ঢুকে দরজা বন্ধ করলেন। তিনি তাঁর বুকের ভিতর তীব্র উত্তেজনা অনুভব করছেন। তিনি শুয়ে থেকে একটি সুইচ অন করে দিলেন, আর মৃদু শব্দে একটি ইঞ্জিন চালু হয়ে গেল। কিছুক্ষনের মধ্যেই তিনি ঘুমিয়ে পড়বেন। ঘুমানোর আগে তিনি কিছু সুন্দর স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করলেন,-ডঃ জোসেফ তার ছোটবেলার একটি ঘটনা মনে করলেন-

  “একদিন তিনি দেখলেন যে তার বাবা একটি ছেলেকে বাসায় নিয়ে এসেছেন। তখন তার বয়স ৭/৮। জোসেফ অবাক হয়ে দেখলেন তার বাবার কোলে তিনি নিজেই বসে আছেন জোসেফ তখন এতই অবাক হয়েছিলেন যে কোন কথা বলতে পারেননি। তখন তার বাবা তাকে বললেন,“এই খোকাবাবু,এত অবাক হয়ে কী দেখছো? তুমিই জোসেফ আর ও তোমার ক্লোন।” তারপরও জোসেফের সে কী কান্না! ডঃ জোসেফ এই ঘটনা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লেন...


   কে যেন ডাকছে! “ডঃ জোসেফ,ডঃ জোসেফ”। চারিদিকে কুয়াশার মতো হালকা নীল আলো। ডঃ জোসেফ নীচের দিকে তাকালেন। আশ্চর্য! তিনি সেই কুয়াশার উপর দাঁড়িয়ে আছেন। এই জায়গাটা কোথায় ? স^প্ন নয়তো! কুয়াশা ভেদ করে কে যেন আসছে! ডঃ জোসেফ আবারো চম্কালেন। তিনি যেন নিজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ তাঁর মনে হলো, তিনি ক্যাপস্যুলে ঘুমিয়ে ছিলেন। কখন জেগে উঠলেন, লোকটিইবা কে ?


   ডঃ জোসেফ সাহস করে কথা বলতে শুরু করলেন।

“ আমি কি জেগে আছি ?”

“ না, তুমি ঘুমিয়ে আছো।”

“ তাহলে যে আপনাকে দেখছি!”

“ তুমি স^প্ন দেখছো।”

“ স^প্নে আর কী কী দেখা যায়?”

“ সব, সবকিছুই।”

“ তাহলে আপনি চলে যান, আমি অন্যকিছু দেখবো।”

   লোকটি কিছুক্ষন চুপ থেকে আবার বলল,“ তুমি কী দেখতে চাও ?”

“ তার আগে বলুন আপনি কে ?”

“ আমি ? আমি অতি জগতের বাসিন্দা।”

“ কী জগতের বাসিন্দা?”

“ অতি জগৎ।”

“ সেই জগৎটা আবার কোথায় ?”

“ সব জায়গায় আছে, আবার কোথাও নেই।”

“ একটু সহজভাবে ব্যাখ্যা করবেন কি ?”

“ অতি জগৎ হচ্ছে অসীম একটি জগৎ , শূণ্য জগৎ। তুমি যে মৃত মানুষদের সাথে যোগাযোগ করেছো, আমি তারা’ই।”

“ আপনি ‘তারা’ই মানে কী ? আপনি কয়জন, আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আমি নিজের সামনেই দাঁড়িয়ে আছি।”

“ তুমি ঘুমানোর আগে নিজেকে নিয়ে চিন্তা করেছিলে, তাই আমরা এখানে তোমার রূপেই উপস্থিত হয়েছি।”

“ বারবার আপনি ‘আমরা’ বলছেন কেন ? এটা কোন ‘আমরা’, সবাই মিলে যে ‘আমরা’ হয় সেটা, নাকি খাওয়া হয় যে ‘আমড়া’, সেটা।

লোকটি হাসলো, হাসি দেখে জোসেফের মুখটা শুকিয়ে গেল। হাসিতে একটা তাচ্ছিল্লের ভাব, যেন তিনি একটি নর্দমার কীট।

“তোমার কী ধারনা, আমরা তোমার সাথে ইয়ার্কি করছি?”

“না মানে, আপনি একা মানুষ, অথচ বারবার ‘আমি’ না বলে ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করছেন কেন?”

“ আমরা সবাই মিলে একজন। পৃথিবীতে যতগুলো মৃত মানুষের নিউরণ সেল অবিকৃত অবস্থায় আছে, তারা সবাই মিলে একজন। এখানে একক বলে কিছুই নেই।”

“ এখানে নিউরণের কথা আসছে কেন ?”

“ তোমাদের পৃথিবীতে যতগুলি ক্যাপস্যুলে মৃত ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে একপ্রকার সংযোগ আছে। আমাদের কোন আকার নেই, আকৃতি নেই। তুমিযে আমাকে দেখছো তা শুধুমাত্র কল্পনা, ছায়া। আমার মাঝেই সবাই রয়েছে। আমিই একক, আমিই সমগ্র।”

“ তাহলে আত্মা ব্যাপারটা কী ধরনের ?”

“ আত্মা বলতে কিছুই নেই।”

   ডঃ জোসেফ চুপ করে রইলেন। কী প্রশ্ন করবেন ঠিক বুঝতে পারছেন না। তাঁর কেন জানি ভয়ভয় করছে।         

“ তুমি চুপ করে আছ কেন ?”

“ কী প্রশ্ন করবো ঠিক বুঝতে পারছি না। আপনি কিছু বলুন।”

“ আমি কি তোমাকে চম্কে দিব ?”

“ কিভাবে ?”

“ আমাদের কথা বলে।”

“ এতে আপনার কী লাভ ?”

“ তুমিতো কৌতুহল বশ্ত আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছো।”

   ডঃ জোসেফ এ’বার সত্যিই চম্কালেন,“ আপনি জানলেন কিভাবে!”

“ আমরা সব জানি। তোমার সম্পর্কে কোন কিছুই, আমাদের তোমার কাছ থেকে জানতে হবে না। ”

“ ও আচ্ছা।”

“ তুমি খুব বুদ্ধিমান। তুমি এক্স-রে রশ্মির সাহায্যে আমাদের নিউরণ কম্পন ধরতে পেরেছো। পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা এভাবে গবেষনা করছে না। তারা মৃত মানুষদের অত্যন্ত হাস্যকর পদ্ধতিতে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে।”

“ সেটা কি সম্ভব নয় ?”

“ না, আরও অনেক কিছুই সম্ভব নয়, বিজ্ঞানীরা বৃথা চেষ্টা করছে। যেমন: টাইম মেশিন নিয়ে গবেষনা করছে।”

“ এটাও সম্ভব নয়!”

“ সম্ভব, তবে তার জন্য দরকার অতি জগৎ। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।”

“ একটু বুঝিয়ে বলুন।”

“ আমরা সম্পূর্ণ পৃথিবীটাকে অতি জগতে পরিণত করতে চাচ্ছি।”

“ কিন্তু কেন!”

“ অসীমকে জানার জন্য। এই মহাশূণ্যকে জানতে হলে চাই অতি জগতের সাহায্য।”

“ আপনাদের জগৎটাইতো অতি জগৎ , পৃথিবীকে নিয়ে কেন মাথা ঘামাচ্ছেন ?”

“ পৃথিবী বলতে আমরা পৃথিবীর মানুষকে বুঝিয়েছি।”

“ আপনি কী বলতে চাচ্ছেন ?”

“ আমাদের সংখ্যা খুব কম। যার কারনে কাজ করতে প্রচুর সমস্যা হয়। আমাদের সংখ্যা বাড়তে হবে।”

“ তারমানে? আপনি কি সব মানুষকে মেরে ফেলতে চাচ্ছেন?”

“ তেমনই মনে করতে পারো।”

“ অসম্ভব! এ আমি কিছুতেই হতে দিব না।”

“ হাঃ হাঃ হাঃ, তোমাকে বুদ্ধিমান ভেবে ভুল করেছি। তুমি আসলে অতি নির্বোধ। তোমাকে কিছুই করতে হবে না। তুমি আমাদের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের কাজটা অনেকদূর এগিয়ে দিয়েছো।”

“ কিভাবে!”

“ তোমার ঐ নির্বোধ রোবট যখন বিজ্ঞান কাউন্সিলে তোমার লাশ নিয়ে যাবে........”

“ লাশ! আমার লাশ!”

“ হ্যাঁ, তোমার লাশ। তুমি এখন মৃত। ”

“ কিন্তু মৃত্যু যন্ত্রনা ছাড়াই আমি মারা গেলাম কিভাবে!”

“ মৃত্যু যন্ত্রনা না দিয়েও আমরা মানুষকে হত্যা করতে পারি। তোমাকে মেরে ফেলে দেবার পর , তোমার সাথে আমরা কথা বলছি। আমাদের এখন একটাই কাজ, আর তা হচ্ছে-পৃথিবীর সব মানুষকে শীতল ক্যাপস্যুলে ঘুমিয়ে দেওয়া। আমরা সেই কাজটাও ঠিক ভাবে করেছি।”

“ কিভাবে ?”

“ তোমাদের পৃথিবীর এখন যে অধিপতি, ক্যাপ্টেন সিমন, আমরা তার মাথায় একটা মিথ্যা খবর ঢুকিয়ে দিব। তোমার সেই নির্বোধ রোবট, ট্রুকুন যখন ক্যাপ্টেনের সাথে কথা বলবে, ঘটনাটা ঠিক তখনই ঘটবে।”

  ডঃ জোসেফ কী করবেন ঠিক বুঝতে পরছেন না। এই রকম একটি ব্যাপার ঘটবে জানলে তিনি কখনোই এই গবেষনা করতেন না। তিনি বুঝতে পারছেন না, কিভাবে এই বিপদ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা যায়। কোনভাবে যদি এদের থামানো যায় তবে ভুলেও তিনি এরকম গবেষনা আর করবেন না। হঠাৎ ডঃ জোসেফের মনে পড়লো......

“আরে, ট্রুকুনতো আছে, ও আমাকে ছয় ঘন্টা পরে জাগিয়ে তুলবে। কোনভাবে যদি এদের ছয় ঘন্টা আটকিয়ে রাখা যায় তবে ট্রুকুন পরো প্রজেক্ট বন্ধ করে দিবে।

“কী হলো জোসেফ, চুপ করে আছো কেন?”

“ও হ্যাঁ, ইয়ে......মানে.., একটা গল্প।”

“গল্প?”

“মানে, একটা গল্প বলতে চাচ্ছিলাম।”

“বল, কী গল্প বলবে।”

“অনেক্ষন দাঁড়িয়ে আছিতো.......”

“তাহলে বসো।”

“এখানে কোথায় বসবো, পুরোটাইতো শূণ্য।”

“ইচ্ছে করো যে, তুমি বসতে চাও, তাহলেই তুমি বসতে পারবে।”

“বাহ্, বেশতো! ইচ্ছে করলেই সব হয়?”

“হ্যাঁ, সব হয়।”

“আমার এখন কী ইচ্ছে করছে জানেন, পিটিয়ে তক্তা বানানো বলে একটা প্রাচীন প্রবাদ আছে, আপনাকে তাই করতে ইচ্ছে করছে।”

“ইয়ার্কি রাখো, কী বলতে চাও বলো।”

“গল্পটা বেশ বড়।”

“কোন সমস্যা নেই, ছয় ঘন্টার একটা বড় গল্প বলো।”

 ডঃ জোসেফ চম্কে উঠলেন-

“আপনি জানলেন কিভাবে, ছয় ঘন্টা আপনাকে থামাতে চাচ্ছি।”

“আগেইতো বলেছি, তোমার কোন কিছুই আমাদের তোমার কাছ থেকে জানতে হবে না। তুমি মারা গেছে অনেক আগে,আর ছয় ঘন্টাও পেরিয়ে গেছে। ট্রুকুন তোমার লাশ নিয়ে এক্ষুনি রওনা দিবে।”

ডঃ জোসেফ হাল ছেড়ে দিলেন, কিছুই করার নেই।

“ আমি তোমাদের ঘৃণা করি।”

“ শুনে খুশি হলাম। এখন তোমাকে আমরা আমাদের একজন সদস্য করে নিব। তাহলে তোমার আর এককভাবে ঘৃণা করার কোন অবকাশ থাকবে না।”

   ডঃ জোসেফ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “কী আর করার, তবে তাই হোক। এখন থেকে আপনাদের সাথে একত্রিত হয়ে, অতি জগতের গুনগান করি।”

“তোমার কথার মধ্যে হতাশার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে।”

“আপনাদের ভাষায় এটা সাময়িক হতাশা, যখন আপনাদের সদস্য হবো তখনতো আর এককভাবে হতাশা প্রকাশ করার কোন অবকাশও পাবো না। ঠিক বললাম কি ?”

“হ্যাঁ, ঠিকই বলেছো।”

    ডঃ জোসেফ আর কোন কথা বললেন না।

    ট্রুকুন, ডঃ জোসেফের লাশ নিয়ে বিজ্ঞানের প্রধান কাউন্সিলের অধিবেশন হলরুমটিতে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে এখনো কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেনি। তাকে নিয়ে সম্ভবত কেউ মাথা ঘামাচ্ছেনা। ট্রুকুন নিজেই কথা শুরু করল-

“ মহামান্য ক্যাপ্টেন সিমন, আপনার অনুমতিতে আমার স্যার ডঃ জোসেফ মৃত মানুষের সাথে যোগাযোগ করার উদ্দেশ্যে গবেষনা করার সময় মারা গেছেন। আমার স্যারের যথাযথ সন্মান প্রদর্শন করার ব্যাবস্থা করুন।”

“ তারমানে ? যোগাযোগ, মৃতমানুষ এসব কী ?”

   হঠাৎ ক্যাপ্টেন সিমন চম্কে উঠলেন। তাঁর কেনজানি মনে হচ্ছে পৃথিবীতে খুব বড় একটা বিপর্যয় ঘটবে। কোন মহাকাশের আগন্তুক আসবে। বহু মানুষ মারা যাবে। ক্যাপ্টেন সিমন সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি এখন আর ডঃ জোসেফের ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ারকে ফোন করে জানালেন, একমাসের মধ্যে পৃথিবীর সবার জন্য শীতল ক্যাপস্যুলের ব্যাবস্থা করতে। সব মানুষকে ভূগর্ভে ঘুমিয়ে রাখা হবে।

    ট্রুকুন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তার এখন আর কিছুই করার নেই। সব মানুষই বিজ্ঞান কাউন্সিলে যোগাযোগ করছে, একটি করে শীতল ক্যাপস্যুলের জন্য। মাঝেমাঝে মানুষের বিচিত্র সব কার্যকলাপ দেখে ট্রুকুন অবাক হওয়ার মতো একটা ভঙ্গি করে বলে - “মানুষকে অত্যন্ত বিচিত্র প্রোগ্রামিং দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। এদের মাঝে অনেক জটিল কিছু সফ্টওয়্যার ইন্সটল করা হয়েছে। এরা একই সাথে দুটি বিপরীতধর্মী কাজ করতে পারে। কখনো কাঁদে আবার কখনো হাসে। কখনো সত্য বলে আবার কখনো মিথ্যা বলে। কখনো আত্মবিশ্বাসী থাকে আবার কখনো সিদ্ধান্তহিনতায় ভোগে”।


......................................................................................................


কোন মন্তব্য নেই

Popular Posts

Featured Post

টাইটানিক কি সত্যিই ডুবেছিলো!

  টাইটানিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান White Star Line ১৯০৭ সালে ৩টি বিলাশবহুল সুপার লাইনার তৈরীর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.