Header Ads

যে ১০টি মুভি আপনার অবশ্যই দেখা উচিত!


এই ১০টি মুভি দেখেন নাই মানে জীবনে কিছুই দেখেন নাই। নিচে ১০টি মুভির লিস্ট দিলাম। যেগুলো অবশ্যই দেখা উচিত। এই মুভিগুলো দর্শকদের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং অনেকক্ষেত্রে ক্লাসিক বা নিজ নিজ জনরায় বেস্ট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। মুভির গল্প বলার ধরন, চরিত্রের গভীরতা এবং ক্রিয়েটিভিটি অন্য লেভেলের।

১. দ্য গডফাদার (১৯৭২) একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত এই মুভিটি গ্যাংস্টার জগতের অন্ধকার দিকটা তুলে ধরে। কাহিনী আবর্তিত হয় কর্লিওনি পরিবারকে ঘিরে, যেখানে পারিবারিক ভালোবাসা এবং অপরাধজগতের চ্যালেঞ্জ মিলেমিশে থাকে। মাফিয়া ডন ভিটো কর্লিওনি এবং তার ছেলে মাইকেলের চরিত্রে আল পাচিনো ও মার্লন ব্র্যান্ডোর অসাধারণ অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এই মুভি গ্যাংস্টার ফিল্মের ভিত্তি স্থাপন করেছে, যা আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। সত্যিকারের পাওয়ার, লয়্যালটি এবং প্রতিশোধের গল্প এই চলচ্চিত্রটিকে ক্লাসিক করে তুলেছে।

২. দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন (১৯৯৩) নির্দোষভাবে হত্যার দায়ে কারাগারে বন্দি অ্যান্ডি ডুফ্রেনের জীবন ও সংগ্রামের কাহিনী এটি। অ্যান্ডির সাথে কারাগারে রেড নামের একজন ব্যক্তির বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা গল্পটিকে আরও মানবিক করে তোলে। এ সিনেমা প্রমাণ করে, কেবল বিশ্বাস ও অধ্যবসায়ই মানুষকে অন্ধকার সময়েও বাঁচিয়ে রাখতে পারে। মুক্তির পথে অ্যান্ডির ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তা অবাক করে। এই মুভি আমাদের দেখায় যে, আশা মানুষকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে।

৩. পাল্প ফিকশন (১৯৯৪) কুয়েন্টিন টারান্টিনোর এই সিনেমায় ভিন্ন ধরনের গল্প বলার কৌশল ব্যবহৃত হয়েছে। বিভিন্ন ছোট গল্পের মাধ্যমে মূল গল্পটি সামনে আসে, যা ক্রাইম এবং হিউমারের এক অভিনব সংমিশ্রণ। বিংশ শতাব্দীর পপ সংস্কৃতিতে দারুণ প্রভাব ফেলে। অভিনয়ের জন্য জন ট্রাভোল্টা, উমা থারম্যান এবং স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের অসাধারণ উপস্থিতি মনে থেকে যায়। অনন্য চিত্রনাট্য ও সংলাপ মুভিটিকে দর্শকদের কাছে বিশেষ করে তুলেছে।

৪. দ্য ডার্ক নাইট (২০০৮) ক্রিস্টোফার নোলানের পরিচালনায় ব্যাটম্যান সিরিজের অন্যতম সেরা মুভি এটি। জোকার চরিত্রে হিথ লেজারের অনবদ্য অভিনয় চলচ্চিত্রটিকে একটি আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এখানে নায়ক এবং খলনায়কের দ্বন্দ্বকে অনন্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গথাম শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাটম্যান ও জোকারের মধ্যে সংগ্রাম দর্শকদের শ্বাসরুদ্ধ করে। এটি কেবল একটি সুপারহিরো মুভিই নয়, বরং নৈতিকতার প্রশ্নগুলিও উদ্ভাসিত করে।

৫. ১২ অ্যাংরি মেন (১৯৫৭) একটি কোর্টরুম ড্রামা, যেখানে একটি হত্যার মামলার বিচার নিয়ে ১২ জন জুরির তর্ক-বিতর্ক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি জুরির মতামত ও দ্বিধা গল্পকে চরম উত্তেজনার দিকে নিয়ে যায়। একটি মাত্র ঘরে পুরো চলচ্চিত্রটি হলেও এর গল্পের গভীরতা মন ছুঁয়ে যায়। তর্কের মাধ্যমে প্রতিটি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়। সমাজের বিচারব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে এ মুভিটি আজও অসাধারণ।

৬. ফাইট ক্লাব (১৯৯৯) অদ্ভুত সুন্দর ও মাথানষ্ট গল্প, যেখানে একজন হতাশাগ্রস্ত যুবক একটি নতুন ধরনের ক্লাব তৈরি করেন। ব্র্যাড পিট ও এডওয়ার্ড নরটনের চরিত্রে অভিনয় মুভিটির প্রতিটি মুহূর্তকে রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। গল্পটি সমাজের নিয়ম ও কর্পোরেট দাসত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক। গভীরভাবে মনস্তাত্ত্বিক এবং আকর্ষণীয় এই মুভি সমাজের আসল চেহারা দেখতে শেখায়। এটি মুভি প্রেমিকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও রিলিজের পর অনেকবছর ধরে মুভিটি ফল্প লিস্টে ছিলো।

৭. সিটি অব গড (২০০২) ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওর অপরাধপ্রবণ এলাকা নিয়ে এই চলচ্চিত্রটি তৈরি করা হয়েছে। শিশুদের জীবনে অপরাধ কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা চিত্রায়িত হয়েছে এখানে। বাস্তবধর্মী কাহিনী এবং চিত্রায়ণ মুভিটিকে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা অর্জনে সহায়ক হয়েছে। একজন তরুণ ফটোগ্রাফারের চোখ দিয়ে সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি দেখানো হয়েছে। সিটি অব গড সমাজের নিম্নস্তরের মানুষের কষ্ট এবং সংগ্রাম তুলে ধরে।

৮. সেভেন সামুরাই (১৯৫৪) আকিরা কুরোসাওয়ার মাস্টারপিস, যেখানে একদল সামুরাইকে গ্রামের মানুষদের বাঁচাতে দেখা যায়। এটি একটি ক্লাসিক সামুরাই ফিল্ম, যা পরবর্তীতে বহু মুভিতে প্রভাব ফেলেছে। প্রতিটি সামুরাইয়ের চরিত্র আলাদা এবং তারা তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চিত্রায়ণ ও দৃশ্যায়ন এমন যে, দর্শক যেন সেই গ্রামে উপস্থিত থাকে। মুভির রান টাইম অনেক হলেও, দর্শকের জন্য একটি শিক্ষণীয় এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

৯. ফরেস্ট গাম্প (১৯৯৪) এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ জীবনগাঁথা, যেখানে ফরেস্টের জীবনের বিভিন্ন অংশ তুলে ধরা হয়েছে। টম হ্যাংকসের অভিনয় মুভিটির প্রাণ। ফরেস্ট তার সরলতা ও ধৈর্যের মাধ্যমে জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। এটি জীবনের অপ্রত্যাশিত মোড়গুলোতে মানুষকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে সাহায্য করে। মুভিটি আমাদের জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখতে অনুপ্রাণিত করে।

১০. গুডফেলাস (১৯৯০) মার্টিন স্করসিসির পরিচালনায় এই মুভি অপরাধজগতের উত্থান-পতনকে কেন্দ্র করে তৈরি। মূল চরিত্র হেনরি হিলের মাধ্যমে অপরাধজগতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রবার্ট ডি নিরো, রে লিওটা এবং জো পেশির অভিনয় মুভিটিকে অনন্য করেছে। গল্পে বন্ধুদের প্রতিশ্রুতি, খ্যাতি এবং বিশ্বাসঘাতকতা ফুটে উঠেছে। এটি অপরাধজগতের এক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং উত্তেজনামূলক অভিজ্ঞতা। এগুলোর বাইরেও আরও অনেক সেরা সেরা মুভি আছে। আমি জাস্ট বেশি পছন্দের ১০টার লিস্ট দিলাম। আপনারাও চাইলে আপনাদের পছন্দের লিস্ট শেয়ার করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই

Popular Posts

Featured Post

টাইটানিক কি সত্যিই ডুবেছিলো!

  টাইটানিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান White Star Line ১৯০৭ সালে ৩টি বিলাশবহুল সুপার লাইনার তৈরীর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.