"পিরামিড রহস্য" (ফিচার) - ফিরোজ হাসান
কেউ বলে ওগুলো ফারাও রাজাদের কবর, কেউ বলে ধর্ম মন্দির।
আবার অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, কবর বা ধর্মমন্দির ছাড়াও অন্যকোন উদ্দেশ্যে
ফারাওরা পিরামিড তৈরী করেছিলো। বৃটিশ দার্শনিক, লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল
একবার বলেছিলেন, “পদার্থবিদ্যা গনিতের উপর বেশি নির্ভরশীল, এর কারণ এই নয় যে, আমরা পদার্থবিদ্যার
অনেককিছুই জানি। বরং কম জানি। আসলে আমরা শুধু পদার্থবিদ্যার গানিতিক দিকটাই ভাল
মতো আবিষ্কার করতে পেরেছি”।
তাহলে এমন কি আছে, যা আমরা জানতে পারিনি, আবিষ্কার করতে পারিনি।
বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত চারটা শক্তি (Force) আবিষ্কার করতে পেরেছেন।
সেগুলো হচ্ছে- ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স, গ্রাভিটেশনালউইক ফোর্স, নিউক্লিয়ার ফোর্স এবং
ষ্ট্রং নিউক্লিয়ার ফোর্স। পঞ্চম কোন ফোর্স কি আছে প্রকৃতিতে? পঞ্চম ফোর্সেও ব্যাপারে
অনেক বিজ্ঞানীই একমত। একজন গবেষক উল্লেখ করেছেন, “জীবন্ত প্রাণীদেহে এমন
একটি শক্তি আছে, যা দূর্বল, অপরিচিত, কিন্তু এটা প্রতিসারী, মেরু অভিমুখী, অধিশ্রায়ী এবং আরও অন্য
শক্তির সমষ্টি। চুম্বক, বিদ্যুৎ, তাপ, জ্যোতি বিকিরণ কোনটির সাথেই মেলেনা এই শক্তি।
বিজ্ঞানীরা খুব চেষ্টা করছেন এই শক্তিটাকে বশে আনার, কিন্তু কিছুতেই সফল হতে
পারছেননা। প্রাচীন মিশরীওরা কি জানতো, এই শক্তিটাকে বশে আনার কৌশল! পিরামিডের আকৃতি কি এই শক্তিকে আয়ত্বে আনতে সাহায্য করতো! কারণ, ‘আকৃতির প্রভেদ পদার্থের উপর ক্রিয়াশীল’- এই ব্যাপারটা নিয়ে বিজ্ঞানীরা রাত-দিন কাজ
করে যাচ্ছেন। বেশ কিছুদিন আগে চেকোশ্লাভাকিয়ায় জনৈক একব্যক্তি কৌতুহল বশত স্থির
করলেন,
প্রাচীনকালের
রীতি অনুযায়ী গোল পিপায় মদ না রেখে অন্য কোনও উপায়ে মদ সংরক্ষণ করবেন। এতে দেখা
গেল নতুন তৈরী করা পাত্রের সব মদ নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কারণে পিরামিডের আকৃতি নিয়ে
বিজ্ঞানীরা আরও বেশী কৌতুহলী হয়ে পড়েছেন।
আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে মিশরের
সাক্কারাতে পৃথিবীর প্রথম পিরামিড তৈরী হয়েছিলো বলে জানা যায়। প্রায় ৪০০০ বছর আগে
মিশরের গিজে (Gizeh) শহরে ফারাও সম্রাট খুফু’র (Khufu) পিরামিড তৈরী করা
হয়েছিলো। প্রায় ২৫ লক্ষ পাথর দিয়ে ৭৫০ বর্গফুট জমির উপর তৈরী করা এই পিরামিডের
প্রতিটি পাথরের ওজন ২৫ টন। ডিজাইন ও গঠন কৌশল দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেন, এগুলো বহির্বিশ্বের
অতিবুদ্ধিমান এলিয়েনদের (Alien) সৃষ্টি। হয়তো প্রাচীন
মিশরীয়রা ফিফ্থ ফোর্সের ব্যাবহার জানতো। যার দ্বারা বহির্বিশ্বের বুদ্ধিমান
প্রাণীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলো। খুফু’র
পিরামিডকে কেন্দ্র করে নীলনদের ব-দ্বীপ ও উপক’ল অঞ্চলের সমান দূরত্ব নিয়ে যদি বৃত্তচাপ আঁকা হয় তবে তা
নীলনদের মোহনার সমস্ত ব-দ্বীপ ও উপকূলকে বেষ্টন
করে। এই খুফু’র পিরামিডের উচ্চতা ইঞ্চিতে হয় ৩৬৫২৪.২। অর্থাৎ
একটি শতাব্দীর মোট দিনের সমান। (সূত্র: ইজিপ্সিয়ান পিরামিড- এল. গ্রীনসেল)। আধুনিক
প্রযুক্তি ছাড়াই প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্ময়কর পিরামিডগুলো তৈরী করেছিলো, তাতে বহির্বিশ্বের
বুদ্ধিমান এলিয়েনের অবদানের ব্যাপারে অনেক বিজ্ঞানীই একমত।
আবার একশ্রেণীর বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, অপার্থিব কোন শক্তি নয়, সেই সময়ে পিরামিড ও মমি
প্রাচীন মিশরের সমাজব্যাবস্থারই একটা অংশ ছিলো । এ ব্যাপারে তাঁরা পিরামিডের মসৃন
তল থেকে উদ্ধারকৃত কিছু বাণী বা মন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন: ২৬৭ নং মন্ত্রের বাংলা অর্থটা এরকম- ‘স্বর্গের জন্য এক সিঁড়ি রচিত হয়েছে, যাতে আরোহন করে রাজা
স্বর্গে যেতে পারেন’।
আবার ৫২৩ নং মন্ত্রে লেখা আছে-‘হে
সূর্যরশ্মি, ঈশ্বর তোমাকে শক্তিদান করেছেন, যাতে তুমি নিজেকে রা-এর চক্ষুর মতো স্বর্গে উত্তোলন করতে পারো’। ‘রা’ প্রাচীন মিশরীয়দের
সূর্যদেবতার নাম ছিলো। তারা মনে করতো, সূর্যদেবতাকে খুশি করতে পারলে তাদের স্বর্গে
যাবার পথটা সহজ হয়ে যাবে। কেননা, প্রাচীন মিশরীয়দের চিন্তায় সূর্যের সঙ্গে
স্বর্গারোহনের সম্পর্ক নানাভাবে প্রতিফলিত। তারা এটাও বিশ্বাস করতো, মৃত্যুর পরেও আরেকটা
জীবন আছে। তবে সেই জীবনে আত্মা যদি একই দেহে বসবাসের সুযোগ না পায় তবে তার মৃত্যু
ঘটবে। যার ফলে তারা মৃতদেহকে বিশেষ পদ্ধতিতে মমি বানিয়ে রাখতো। অনেকটা শুটকি মাছের
মতো। আর এই মমি সংরক্ষণ করার জন্য বিশেষ কুঠুরি বা দূর্গ হিসেবে মিশরীয়রা তৈরী
করেছিলো পিরামিড।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, পিরামিডের গঠন প্রকৃয়া
তিন পর্যায়ে বিবক্ত। প্রথমত: খাঁজকাঁটা পিরামিড, অর্থাৎ চারপাশের
পৃষ্টদেশ অসমতল। দ্বিতীয়ত: যে পিরামিড কৌনিক
বক্রতায় উপরে উঠে কিছুটা পর আরও একটু বেঁকে গিয়ে চূড়ায় উঠে গেছে। তৃতীয়ত, পৃষ্টদেশ সমতল পিরামিড।
যা আমরা বর্তমানে দেখে থাকি। এ থেকে প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন, বহির্জাগতিক কোনও
বুদ্ধিমান এলিয়েনরা নয়, বরং ধীরে ধীরে প্রাচীন মিশরীয়রা পিরামিড তৈরীতে দক্ষতা
অর্জন করেছিলো। এখানে প্রশ্ন এসে যায় লোকবলের ব্যাপারে। এলিয়েন এবং আধুনিক
প্রযুক্তি ছাড়া পিরামিড তৈরী করতে হলে হাজার হাজার শ্রমিকের বছরের পর বছর অমানুষিক
পরিশ্রম করা দরকার। হয়েছিলও তাই। সেই সময়ে মানবাধিকারের কোন বালাই ছিলোনা। তখনকার
রাজা-বাদশাহরা নিজেদের স্বার্থের জন্য শ্রমিকদের
দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করে নিতেন। ইতিহাস তার স্বাক্ষী, সম্রাট শাহ্জাহান
তাজমহল কারিগরের হাত কেঁটে ফেলার হুকুম দেন। চীনের প্রাচীর তৈরী হয়েছিলো
যুদ্ধাপরাজিত হাজার হাজার বন্দি সাধারণ মানুষের অমানুষিক পরিশ্রমের ফলে। ‘মে দিবস’-এর ঘটনা আমাদের সাবারই
জানা। তাই, আমরা হয়তো বর্তমান যুগে কল্পনাও করতে পারবোনা, আজ হতে ৪/৫ হাজার বছর আগে পিরামিড তৈরী করার জন্য প্রতিদিন শ্রমিকরা
কেমন পরিশ্রম করেছিলো। তখন মিশর জ্ঞান ও সম্পদে সবার চেয়ে অনেক উপরে ছিলো। তাই
যুদ্ধবন্দিদের কাজে লাগানো তাদের কাছে কোনও ব্যাপার ছিলোনা। তাছাড়া নীলনদের
নিয়ন্ত্রণ থাকতো সম্রাটের হাতে। আর নীলনদের পানি বন্টনের উপর সাধারণ মিশরীয়দের
জীবন নির্ভর করতো। ফলে তারাও শ্রমদানে বাধ্য থাকতো।
প্রাচীন মিশরীয়দের পক্ষে কিভাবে এত বিশাল
পিরামিড তৈরী করা সম্ভব হয়েছিলো, প্রতœতত্ত্ববিদরা তার একটা গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যাও
দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, মিশরে প্রচুর পরিমাণে কোয়ার্টজ পাথর পাওয়া যায়। এরদ্বারা
পাথর কাঁটা যায়। আবার গ্রানাইট পাথরকে খুব গরম করে তাতে পানি দিলে ফেটে যায়। এভাবে
বড় একটি গ্রানাইট পাথরকে ছোটছোট খন্ডে পরিণত করা যায়। সেইসময়ে তামার তৈরী
যন্ত্রপাতির ব্যবহারেরও প্রমাণ পাওয়া যায়। সেসব হাতে তৈরী ছোটখাট যন্ত্রপাতি দিয়ে
লাইমষ্টোন পর্যন্ত কাঁটা যেতো। কাজেই পাথরকে ব্যবহারের উপযোগী করার অনেক কৌশল
প্রাচীন মিশরীয়রা জানতো। অধিকাংশ পিরামিড নীলনদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত। যার কারণ
হিসেবে বলা যায়, নদী পথে পাথর বহনের সুবিধা। এইসব তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, পিরামিড এলিয়েন নয়; মানুষেরই বিশ্ময়কর
সৃষ্টি।
সবচেয়ে বিশ্ময় পিরামিডের ভিতরে। পিরামিডের
বাইরে প্রখর সূর্যতাপ থাকলেও এর ভিতরের আবহাওয়া অস্বাভাবিক আর্দ্র থাকে। আর
পিরামিডের ভিতরে এখানে-ওখানে মরে পড়ে থাকা
বিড়াল বা অন্যান্য ছোট ছোট প্রাণীর মৃতদেহ দেখলে আশ্চর্য হতে হয়। সবক’টা প্রাণীর মৃতদেহ যেন শুকিয়ে মমি হয়ে গেছে। ওগুলো থেকে
পঁচা গন্ধও বের হয়না। তাহলে কি মৃতদেহ শুকিয়ে মমি হওয়ার মতো পরিবেশ পিরামিডের
ভিতরেই আছে? দীর্ঘ গবেষনার ফলে দেখা গেছে, পিরামিডের ভিতরে
ফারাওদের কবর বা ধর্মমন্দিরে একটানা অনেকক্ষণ থাকলে আক্রান্ত হয়ে পড়ে মানুষের মন, একবার সম্রাট নেপোলিয়ন
পিরামিড দেখার জন্য লোকবল নিয়ে মিশরে গেলেন। পিরামিডে ফারাওদের কক্ষে ঢুকে তাঁর
একা থাকার ইচ্ছা হলো। সবাইকে চলে যেতে বললেন। কিছুক্ষণ পর হন্তদন্ত করে বের হয়ে
এলেন নেপোলিয়ন। বাইরে এসে কাউকে কিছু বললেননা। পরে জানা গেছে, ফারাওদের কক্ষে ভূত
দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে নেপোলিয়ন ঘরের কোনে অদ্ভুত লাল আলো দেখতে পেতেন।
বাকী জীবন কেঁটেছে ‘লাল’ মানুষের দুঃস্বপ্ন দেখে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, পিরামিডে যারা প্রবেশ
করেছেন তারা সকলেই কোনও না কোনো অপঘাতে মারা গেছেন। পিরামিডের ভিতরে ঢুকে
বিজ্ঞানীরা নানারকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা ফারাও রাজার অভিশাপের
শিকার,
নাকি
অজানা কোন রেডিয়েশনের (Radiation) শিকার! শুধু পিরামিড নয়, মমি নিয়েও ঘটে গেছে অনেক রহস্যজনক ঘটনা। যার
কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি। এমনই এক ঘটনা আছে একটি মমি নিয়ে। আজ
হতে ৩৫০০ বছর পূর্বে ‘প্রিন্সেস অব আমিন-রা’ মারা যাওয়ার পর তাকে
মমি করে রাখা হয়েছিলো। উনিশশতকের শেষ দিকে উদ্ধারকৃত এই মমিটি চারজন ইংরেজ কিনে
হোটেলে নিয়ে আসেন। তাদের একজন কয়েকঘন্টা পর হোটেল থেকে বের হয়ে মরুভূমির দিকে
হেঁটে চলে যান। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়জন তার এক মিশরীয় ভৃত্যোর
দ্বারা গুলিবিদ্ধ হন। তৃতীয়জন দেশে ফিরে দেখেন, ব্যাংকে রাখা তার সব
টাকা লোপাট হয়ে গেছে। আর চতুর্থজন দেশে ফিরে রোগাক্রান্ত হন। শেষ জীবনে তিনি
রাস্তায় দেশলাই বিক্রি করতেন। এরপর মমিটি ইংল্যান্ডে পৌঁছালে তা মিউজিয়ামে রাখা
হয়। একদিন এক মহিলা নোংরা কাপড় দিয়ে মমিটির মুখ মুছে দিয়েছিলো। পরেরদিন তার ছেলে
হাম রোগে মারা যায়। একবার জনৈক সাংবাদিক মমিটির ছবি তুলে ডেবেলপ করে দেখেন, রাজকুমারীর মুখের বদলে
বীভৎস এক চেহারা। এ ঘটনার পর তিনি আত্মহত্যা করেন। সবশেষে এই মমিটি কেনেন জনৈক
মার্কিন প্রত্নতত্ত্ববিদ। ইংল্যান্ড থেকে আমেরিকায় যাওয়ার জন্য তিনি ১৯১২ সালে
বিখ্যাত ‘টাইটানিক’ জাহাজে
ওঠেন। অনেকেই ধারনা করেন, এই অশুভ মমির কারণেই নাকি ডুবে গিয়েছিলো ‘টাইটানিক’ জাহাজ। এমন আরও অনেক
ঘটনা আছে পিরামিড ও মমি নিয়ে। একবার জনৈক রেডিও প্রকৌশলী ক্যারেল ডরব্যাল কৌতুহল
বশত একটা ভোঁতা ব্লেড পিরামিডে রাখলেন। কিছুদিন পর তিনি দেখলেন ভোঁতা ব্লেড
ধারালো হয়ে গেছে। ক্যারেল এই ব্যাপারটাকে কমার্শিয়াল ক্ষেত্রে কাজে লাগালেন। তিনি ‘কেঅপস পিরামিডরেজর ব্লেড শার্পনার’ নামে
ব্যাবসা খুলে বসলেন।
যুগে যুগে মানুষ পিরামিড নিয়ে গবেষণা করে আসছে। ভবিষ্যতেও করবে। একদিন হয়তো এই রহস্য উদ্ঘাটন হবে। তবে তার আগ পর্যন্ত তর্ক-বিতর্ক থামবেনা। এলিয়েন; নাকি মানুষ, কে তৈরী করেছিলো পিরামিড? যদি এলিয়েনই তৈরী করে থাকে, তাহলে প্রাচীন মিশরীয়রা কিভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলো, এলিয়েনরা এখন আর কেন পৃথিবীতে আসেনা। আর যদি মানুষ তৈরী করে থাকে ধর্মমন্দির ও কবর হিসেবে ব্যবহার করার জন্য, তাহলে পিরামিডের ভিতরে নেপোলিয়ন লাল আলো দেখলেন কেন, ‘আমিন-রা’র মমিতে অশুভ শক্তি এলো কিভাবে? কেন মমি আরোহণ বা সংগ্রহকারীরা অপঘাতে মারা যায়? তবে কি ফারাও রাজাদের অভিশাপ, যাদু-মন্ত্রেও ফলে এসব ঘটছে? কিন্তু বিজ্ঞান তা মনে করে না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, হয়তো পিরামিডের আকৃতির কারণে এখানে আপনা থেকেই ফিফ্থ ফোর্স কাজ করে। যা হয়তো ত্রিমাত্রিক প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর বা ব্যবহার না জানার ফলে সমস্যাগুলো হচ্ছে। হয়তো এই ফিফথ ফোর্সের কারণে পিরামিডের ভিতরে সবসময় আদ্রতা বিরাজ করে, হয়তো এর কারণেই রেজর ব্লেড ধারালো হয়েছিলো। এই ফিফ্থ ফোর্সের ব্যাপারে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হোয়াইট একবার উল্লেখ করেছিলেন- “...বর্তমানে বেশ কিছু বিজ্ঞানী অনুমান করছেন প্রকৃতিতে আরও এক ধরনের শক্তি শিগগিরই খুঁজে পাবে বিজ্ঞান, ...যেটা প্রিন্সিপল অফ ভাইটালিটির সাথে মিলে যাবে...”। আর এই শক্তি যদি পিরামিডের ভিতরেই থেকে থাকে, তাহলে আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে প্রাচীন মিশরীয়রা কিভাবে ফিফ্থ ফোর্সকে আয়ত্ত্বে এনেছিলো? কোন্ জ্ঞান তারা অর্জন করেছিলো! এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে।
...................................................................................................




কোন মন্তব্য নেই