Header Ads

Apocalypto (দম বন্ধ করা এক মুভি)

Mel Gibson এর বহুল আলোচিত ও ব্যাপক জনপ্রিয় মুভি। মায়া সভ্যতার শেষ দিকের প্রেক্ষাপটে মুভিটির গল্প! ২০০৬ সালে এই মুভিটির জন্য মেল গিবসন সাধারণ দর্শক থেকে ক্রিটিকদের তুমুল প্রশংসা পান। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুভিটির বেশ কিছু দৃশ্যায়নের জন্য সমালোচনা তৈরী হয়। #মুভির_গল্প: মায়া সভ্যতার অর্ন্তগত মেক্সিকো ও উত্তর আমেরিকার রেইনফরেস্ট ঘিরে এই মুভির কাহিনী গড়ে উঠেছে। এই বনের এক উপজাতি গোষ্ঠীর নিরুপদ্রব জীবনযাপন। গোষ্ঠি প্রধাণ flint sky এর পুত্র Jaguar paw এবং অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে হাসিখুশি, প্রাণোচ্ছল একটা গ্রাম।

একদিন হঠাৎ সেখানে শত্রুরা হানা দেয়!! দাস সংগ্রাহক রুথলেস যোদ্ধাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় উপজাতিদের গ্রাম। লন্ডভন্ড হয়ে যায় গোটা গোষ্ঠি, বৃদ্ধদের হত্যা করা হয়, নারীদের ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়, শিশুদের ফেলে যায় আর সমর্থদের মায়া শহরে নিয়ে যাওয়া হয় বিক্রির উদ্দেশ্যে! রুথলেস যোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়ে Jaguar paw, তবে তার আগে সে তার গর্ভবতী স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে এক শুকনো কুয়োয় গাছের লতার সাহায্যে নামিয়ে দেয়, লুকিয়ে থাকার জন্য! রুথলেস যোদ্ধারা দেবতার সন্তুষ্টির জন্য নর বলি দেয়! সেখানে Jaguar paw কে যখন বলি দিবে ঠিক তখনই সূর্যগ্রহণ শুরু হয়! বেঁচে যায় Jaguar paw, তবে রক্ষা পায় না! বলি থেকে রক্ষা পাওয়া তিনজনকে মাঠে নিয়ে ছেড়ে দেয়, বর্শা দিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে। তবে Jaguar paw এর বন্ধু নিজের জীবন দিয়ে তাকে বাঁচায় এবং সেখান থেকে পালাতে বলে!

দৌড় দেয় Jaguar paw, কিন্তু রুথলেস যোদ্ধারা এটা হতে দিবে কেন? বেঁচে গেলে সেটা তাদের জন্য লজ্জা এবং অশুভ! তাই তারা Jaguar paw এর পিছু নেয়! তাকে হত্যা করতেই হবে!  শারীরিক শক্তিতে পিছিয়ে থেকেও Jaguar paw ছুটে চলে পৌছায় নিজের পরিচিত জঙ্গলে, তবে তার গ্রাম আরও অনেক দূর! এদিকে বৃষ্টি শুরু হয়৷ দুঃচিন্তা হয় তার স্ত্রী সন্তানের জন্য, কুয়োর ভিতর পানি জমতে থাকে, এদিকে স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ব্যথা ওঠে আর ওদিকে Jaguar paw এর সামনে রুথলেস যোদ্ধারা!

এরপর বাকিটা মুভিতে দেখে নিবেন। সিমেনার শেষ অর্ধেকে আপনি নিঃস্বাস নিতেও ভুলে যাবেন, নিশ্চিত! মিউজিক মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিল আউট অফ ওয়ার্ল্ড। জেমস হর্নারের কম্পোজিশনে রাহাত ফতেহ আলী খানের কন্ঠে ম্যাক্সিকান ট্রাডিশনাল মিউজিকের সাথে ইন্ডিয়ান ফিউশনের সমন্বয় করেছেন কম্পোজার। ট্র‍াজিক দৃশ্যের সাথে BGM ছিল শরীরের লোম খাড়া করে দেওয়ার মতো। রাহাতের ভয়েস যেন রেইনফরেস্টের গাছে গাছে প্রতিফলিত হচ্ছিলো, এতটাই দৃশ্যের সাথে সিনক্রোনাইজড ছিল সেটা।

সমালোচনা  দর্শক হিসেবে এই মুভির খুঁত খুঁজতে যাওয়া বোকামি। তবে ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই মুভির বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির কিছু অভিযোগ এনেছেন। মুভিতে নরবলির যে দৃশ্য মায়া সভ্যতার অংশ হিসেবে দেখানো হয়, তা মূলত এজটেক সভ্যতায় ঘটেছিল বলে দাবী করেন সমালোচকরা। মুভিটি দেখে না থাকলে আজই দেখে ফেলুন, এক কথায় অসাধারণ মুভি!

কোন মন্তব্য নেই

Popular Posts

Featured Post

টাইটানিক কি সত্যিই ডুবেছিলো!

  টাইটানিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান White Star Line ১৯০৭ সালে ৩টি বিলাশবহুল সুপার লাইনার তৈরীর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.